মো:আল-আমিন
দেশের গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী সাংবাদিকরা। পেশাগত জীবনের ঝুঁকি আর প্রতিকূলতাকে জয় করে যারা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে যান, সেই সংবাদকর্মীদের জীবনের শেষ পর্যায়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাটে এক অনিশ্চিত ও কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে।
সরকারি বা বেসরকারি অন্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবসরকালীন পেনশনের ব্যবস্থা না থাকাটা আমাদের গণমাধ্যম জগতের এক বিশাল শূন্যতা। দীর্ঘদিনের এই আক্ষেপ নিরসনে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এখন ‘অবসর ভাতা’ চালুর বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করছে, যা সাংবাদিক মহলে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকদের সাথে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে, সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরির কাজ এখন প্রক্রিয়াধীন। বিশেষ করে ৬৫ বছর বয়সী সাংবাদিকদের জন্য অবসর ভাতা চালুর প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে সক্রিয়ভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে। এটি কেবল একটি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি মানবিক দায়বদ্ধতা।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মতানুযায়ী, এই ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সনদের দিকে না তাকিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত সাংবাদিকদের জীবনসংগ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। মফস্বলের সাংবাদিকরা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা বড় গণমাধ্যমের ছাতার নিচে না থাকায় দীর্ঘ কর্মজীবন শেষেও অসহায় হয়ে পড়েন। তাই এই ভাতার মানদণ্ড নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা পর্যায়ের প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ের তালিকা প্রণয়নে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তবে শঙ্কার জায়গাটি হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগই দীর্ঘসূত্রতার কারণে সুফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা চাই না, এই অবসর ভাতার বিষয়টিও কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকুক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে তা মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।
একটি সুরক্ষিত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভবিষ্যৎ একজন সাংবাদিককে আরও নির্ভীক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে উৎসাহিত করবে। রাষ্ট্র যদি তার সাংবাদিকদের শেষ বয়সের অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়, তবেই সাংবাদিকতা পেশার মান ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: মো. আল-আমিন
নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক ভোরের হাওয়া।
Leave a Reply