চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২ নম্বর আড়িয়া গ্রামে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিকাশ চন্দ্র সাধুখা (পিতা: গৌর চন্দ্র সাধুখা) মাদকসহ আটক হওয়ার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে মুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাশ(ইয়াবা ডিলার) চন্দ্র সাধুখার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তার সহযোগী হিসেবে হারুন (পিতা: আওলাদ) ও ছোট হারুন (পিতা: হারেস) নামের দুই ব্যক্তি বিভিন্ন সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সহযোগিতা করে আসছেন।
গ্রামের সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজের অভিযোগ, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে তারা একাধিকবার অভিযুক্তদের সতর্ক করেছেন। কিন্তু এসব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি এবং মিথ্যা মামলার আশঙ্কা দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে বিকাশ চন্দ্র সাধুখা মাদকসহ আটক হওয়ার পর তিতুদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিলন মিয়া তাকে মুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তাকে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে আটক একজন ব্যক্তি যদি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মুক্ত হয়ে যান, তাহলে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে? তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
মাদক ব্যবসার নেপথ্যে কারা? কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড? অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার এবং এলাকাবাসীর বিস্ফোরক সব অভিযোগ নিয়ে থাকছে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্ব।
(প্রতিবেদনটি স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।)
Leave a Reply