চিকিৎসার ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাওয়া বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ।
স্বাস্থ্যখাতের এই বরাদ্দকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, জনবল সংকট দূর করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।
প্রস্তাবিত বাজেটে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের ঘোষণা থাকছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, যার ৮০ শতাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করতে এমবিবিএস কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আশা করছে সরকার।
স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করে সমন্বিত ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হবে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’। এছাড়া প্রতিটি নাগরিককে আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) শিল্প পার্কের উন্নয়ন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ওষুধের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এদিকে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রশিক্ষণ দেশ-বিদেশে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করবে।
সরকারের মতে, নতুন স্বাস্থ্যনীতির মূল লক্ষ্য হলো চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ হ্রাস করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও টিকা পৌঁছে দিতে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের এই ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply