প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন এবং সম্ভাব্য ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ, জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত সমন্বয় ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির আওতায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, স্বেচ্ছাসেবকদের অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি, স্যাটেলাইটভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং জনগণকে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও শক্তিশালী পূর্বাভাস ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটাতে পারলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
Leave a Reply