খুলনা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা ও খুলনার উপকূলীয় এলাকাজুড়ে নিজেকে কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছে শিহাবুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। সরকারি ঘর ও চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আশাশুনি ও কয়রা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মাড়িয়াল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিহাবুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকায় নিজেকে ‘আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সদস্য’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তবে আশাশুনি প্রেস ক্লাবের ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান এ দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রেস ক্লাবে এই নামে কোনো সদস্য নেই। আমরা তাকে চিনিও না। প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে সে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভুয়া পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বেড়াচ্ছে।”
শুধু ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ই নয়, কয়রা ও আশাশুনির প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের কাছে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি কিংবা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে তিনি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করেননি।
প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। অভিযোগ রয়েছে, কলারোয়া উপজেলায় কর্মরত জাতীয় দৈনিক ‘একুশে নিউজ’-এর স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হানের কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্যপদ ও পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন শিহাবুজ্জামান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিক যখন প্রতারণার শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষ কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সাতক্ষীরার পাশাপাশি খুলনার কয়রা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামেও শিহাবুজ্জামানের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে এক কথিত নারী সাংবাদিকের সঙ্গে মিলে তিনি একটি প্রতারণা চক্র গড়ে তুলেছেন এবং বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছেন।
প্রতারকের এমন কর্মকাণ্ডে উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশাশুনি ও কয়রা থানাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, চিহ্নিত এই ভুয়া পরিচয়ধারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আরও বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হতে পারেন।
Leave a Reply