(দ্বিতীয় পর্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)
এমডি রবিউল ইসলাম,ক্রাইম রিপোর্টার
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় কিশোর সজীবের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ধীরে ধীরে আরও জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। প্রথম পর্ব প্রকাশের পর নতুন তথ্য, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ভিন্ন ভিন্ন মতের পরিপেক্ষিতে অনেকেই দাবি করেছেন ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মুগদা হাসপাতালকে ঘিরে নতুন তথ্য
১৩/০৫/২০২৬ ইং তারিখ আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যম কর্মীরা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এসময় হাসপাতালের পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ এসআই রোকনুজ্জামান সাহেবের নিকট ২৭/০৩/২০২৬ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার সজীবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো নথিপত্র, এন্ট্রি বা আনুষঙ্গিক তথ্য রয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
উক্ত এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রেকর্ড ও তথ্য খোঁজাখুঁজি করেও সংশ্লিষ্ট কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি। তবে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা যেতে পারে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে গণমাধ্যম কর্মীরা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সজীবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ও তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেন।
এরপর গণমাধ্যম কর্মীরা ডাঃ মোহাম্মদ মনির হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সজীবের মৃত্যুর বিষয়, ডেথ সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন রেকর্ড ফাইল তল্লাশি ও ফাইল পর্যালোচনা করে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, হাসপাতাল থেকে সজীবের নামে কোনো ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়নি। তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে চলে গিয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্যে নতুন ধোঁয়াশা
সজীবের ফুফু জেসমিন আক্তার প্রথমদিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেকে প্রকাশ করেছে জেসমিন আক্তার হুমকি স্বরূপ বলেন গণমাধ্যম কর্মীরা পরবর্তীতে আমার বাসায় আসলে এলাকার লোক দিয়ে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হবে ফলে এতে তথ্য সংগ্রহে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তথ্য দিতে অনাগ্রহ—সন্দেহ বাড়ছে
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। কোথাও সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না, কোথাও গণমাধ্যম কর্মীদের স্থানীয় রাজনীতিবিদ ইব্রাহিম কাজী নামে এক ব্যক্তিকেদিয়ে কথার দ্বারা ভিতি দেখানোর চেষ্টা করছেন
এ কারণে ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা আরও বাড়ছে বলে মত স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের বক্তব্য
এলাকার বেশিরভাগ পাড়া-প্রতিবেশী গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন, “আপনারা সঠিক তথ্য উদঘাটন করেন, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনেকেই বলেছেন, “ঘটনার প্রকৃত সত্য আমরা জানতে চাই। কেন ময়নাতদন্ত করা হয়নি, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। ময়নাতদন্ত করা হলে হয়তো প্রকৃত সত্য আরও স্পষ্টভাবে জানা যেত।”
এদিকে মুগদা হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তাও গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট জানিয়েছেন, “আপনারা সত্য তথ্য তুলে ধরেন। আমরাও জানতে চাই আসল সত্যটা কী। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে, সেটি তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া উচিত।”
খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ও গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দ্রুত সত্য তথ্য প্রকাশ করেন। সর্বোচ্চ সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে থাকবে।”
জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের যোগাযোগ হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জুয়েল রানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জানা গেছে খিলগাঁও থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে সজিবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান মৃতুর সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনায়স্থলে গিয়ে পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীর বক্তব্য ও ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে এবং লাশ দেখে প্রাথমিক মনে হয়েছে অপমৃত্যুই হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন করেন। আপনিকি জানার চেষ্টা করেছেন মৃত্যুর পিছনের কারণ কি ছিল এবং ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন ছিল কিনা। এ প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই জুয়েল রানা বলেন এ বিষয়ে অধিকতর ইনভেস্টিগেশন ও জানার চেষ্টা করলে হয়তো পুলিশের বিরুদ্ধে ভিন্ন মন্তব্য করতে পারেন পরিবার ও এলাকাবাসী। যার কারণে ময়নাতদন্ত ও অধিকতর ইনভেস্টিগেশন করার চেষ্টা করিনাই । তদন্ত কর্মকর্তার দায় সারা এ ধারণার বক্তব্যের ফলে ঘটনাটির প্রকৃত সত্য, মৃত্যুর কারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সচেতন মহলের মতে,
“নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা জানা সম্ভব নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা জরুরি।
তাদের মতে,
“সত্য যাই হোক, সেটি সামনে আসা উচিত। না হলে সন্দেহ আরও বাড়বে।” এবং কিশোর কিশোরীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে যেতে পারে।
অনুসন্ধান চলমান…
পরিবার, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পর্বে আরও গভীর তথ্য উদঘাটন করে প্রকাশের চেষ্টা চলছে————————
তৃতীয় পর্বে থাকছে:
• সজীবের মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্তের তথ্য
• প্রত্যক্ষদর্শীদের আরও বক্তব্য
• সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র নিয়ে অনুসন্ধান
• মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিশ্লেষণ
চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।
Leave a Reply