রাজধানীর ধলপুরে উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার পরিবর্তে চলছে অনিয়ম আর দুর্নীতির মহোৎসব। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৬/১-এর ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজা এবং সংশ্লিষ্ট অথোরাইজড অফিসারের সরাসরি মদদে ধলপুর ২০ নম্বর হোল্ডিংয়ে রাজউকের অনুমোদিত নকশা তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পিডিডিএল (PDDL) নামক একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান আর জরিমানাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতারাতি বদলে গেছে দৃশ্যপট।
অভিযানের নামে নাটক:অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক মাস আগে রাজউকের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জোন-৬ এর অথোরাইজড অফিসারের নেতৃত্বে ধলপুর ২০ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। সেই অভিযানে নকশা বহির্ভূত নির্মাণের প্রমাণ পাওয়ায় পিডিডিএল-কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশই এখন পরিদর্শক শামীম রেজার জন্য ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদারকির আড়ালে ‘ম্যানেজ’ কালচার:উচ্ছেদের পর তদারকির দায়িত্ব পান ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজা। কিন্তু দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি বিষয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজউকের সেই সিলগালা বা স্থগিতাদেশের কোনো চিহ্ন এখন আর ভবনে নেই। বরং সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং সেটব্যাক (ছাড় দেওয়া জায়গা) না মেনেই পুরোদমে চলছে নকশা বহির্ভূত অংশ নির্মাণের কাজ।
ঘুষের সিন্ডিকেট ও ভাগবাঁটোয়ারা:অভিযোগ রয়েছে, পরিদর্শক শামীম রেজা ও জোন-৬/১-এর অথোরাইজড অফিসারের মধ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পিডিডিএল-এর কাছ থেকে বড় অংকের ঘুষ গ্রহণ করে তাদের অবৈধ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভয় দিয়েছেন শামীম রেজা। এই ঘুষের ভাগ পৌঁছে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটেও, যার ফলে রাজউকের আইন এখন এই ভবনের সামনে অসহায়।
বিপন্ন নগরজীবন, নীরব রাজউক:বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ ঢাকা শহরকে ভয়াবহ অগ্নি নিরাপত্তা ও ভূমিকম্প ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, “শামীম রেজা আসার পর থেকেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। তিনি প্রায়ই আসেন, কিন্তু কাজ বন্ধ করার বদলে বিল্ডার্সের লোকদের সাথে হাসাহাসি করে চলে যান। আমরা জানি এখানে টাকার খেলা চলছে।”
বক্তব্য নেই অভিযুক্তদের:এই গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধ ওঠা অভিযোগের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
জনগণের দাবি:উচ্ছেদ অভিযান আর জরিমানার পর পুনরায় অবৈধ কাজ শুরু হওয়া প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। শামীম রেজার মতো কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লালসা নগরবাসীর নিরাপত্তাকে জিম্মি করে ফেলেছে।
ধলপুরের এই ভবন নির্মাণের অনিয়ম রোধে রাজউকের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply