মো:আরমান হোসেন রাজিব,ঢাকা:
রাজধানীর পল্লবী থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাজানো মামলায় হয়রানি এবং তদন্তের নামে স্বর্ণ লুটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোহাকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পল্লবী সেকশন-১০ এলাকার বাসিন্দা সাবিহা মাহবুবার বাসা থেকে ৯ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা চুরি হয়। এই ঘটনায় গৃহকর্মী মোসাঃ শিউলীকে (৪৬) অভিযুক্ত করা হয়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, চুরির দীর্ঘ ২ মাস ২৫ দিন পর গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পল্লবী থানায় মামলা (নং-৬) করা হয়। তদন্তের শুরু থেকেই নানা অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। মামলার এজাহারে চুরি যাওয়া অলংকারের কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা বা ওজন উল্লেখ ছিল না। এমনকি বাদীর মা’কে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করার দাবি করা হলেও তার চিকিৎসার কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ উপস্থাপন করেনি।
অভিযোগ উঠেছে, মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগেই এসআই তোহাকুল ইসলাম স্থানীয় কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ছদ্মবেশে তদন্ত শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিআরটিএ অফিসের সামনে থেকে শিউলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজধানীর আদাবর বাজারের ‘প্রভা জুয়েলার্স’ থেকে চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জুয়েলার্স মালিক আনোয়ার হোসেনের দাবি, পুলিশ দোকানে গিয়ে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভয়ভীতি দেখিয়ে ম্যানেজারকে দিয়ে শোকেসে থাকা ১২ ভরি ওজনের ২২ ক্যারেটের চেইন জোরপূর্বক আগুনে গলিয়ে পিণ্ড তৈরি করায়।
স্বর্ণ গায়েবে অভিযোগে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা ১২ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ৮ ভরি ১ আনা ওজনের একটি টুকরো জব্দ তালিকায় দেখানো হলেও অবশিষ্ট ৩ ভরি ১৪ আনার বেশি ওজনের অন্য টুকরোটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কোনো জব্দ তালিকা করা হয়নি এবং জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি। অভিযানের সময় সেখানে সাংবাদিক উপস্থিত হলে পুলিশ তাদের বের করে দিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার চেষ্টা করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের মদদে বাদী পক্ষ আদালতের চোখে ধুলো দিয়ে অন্য মালিকের স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক তোহাকুল ইসলাম সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলুন, আমি কিছু বলতে পারবো না।” হোয়াটসঅ্যাপে জব্দ করা স্বর্ণের টুকরোর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।
আইনের রক্ষক হয়ে ছদ্মবেশী লুটেরার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা। বর্তমানে বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তাধীন রয়েছে।
Leave a Reply