মো:আরমান হোসেন রাজিব,ঢাকা:
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে জমকালো টেপ টেনিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যা ইতোমধ্যেই তরুণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।
‘আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদ’-এর উদ্যোগে আগামী মে মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে চলছে জোর প্রস্তুতি।এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর বিপুল প্রাইজমানি। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে নগদ ৩ লাখ টাকা, যা টেপ টেনিস ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি দলকে ১২ হাজার টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য থাকছে আকর্ষণীয় জার্সি, ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার। পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচ অনলাইনে লাইভ সম্প্রচার করা হবে, ফলে মাঠে উপস্থিত না থেকেও দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন প্রতিটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।
টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাঠে—শ্যামলী ক্লাব মাঠ, গোলারটেক মাঠ এবং মিরপুর কনকর্ড মাঠ (আশুলিয়া)। ইতোমধ্যেই এসব ভেন্যুকে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টের আহবায়ক ও আদাবর থানা বিএনপি,ঢাকা মহানগর উত্তর-এর যুগ্ম-আহ্বায়ক মনোয়ার হাসান জীবন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আদাবর এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। আমরা শ্যামলী ক্লাব মাঠকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছি এবং এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলিতে যুবক ও কিশোরদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। এর ফলে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি—এমনকি অনলাইন জুয়ার মতো ভয়ংকর আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে বড় ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যুব সমাজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
মনোয়ার হাসান জীবন জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি এসব কার্যক্রম মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, “যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে মাঠে ফেরাতে হবে—খেলাধুলাই পারে তাদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সুস্থ শরীর ও নির্মল বিনোদনের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।” নিজেকে একজন ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি এলাকাবাসীর দোয়া ও সর্বাত্মক সমর্থন কামনা করেন।
প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী টুর্নামেন্ট ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আলম এবং সাধারণ সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রস্তুতি চলছে সুসংগঠিতভাবে। আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ মামুন জুয়েল এবং প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন লাবু, যাদের প্রচেষ্টায় টুর্নামেন্টটি পাচ্ছে একটি পরিপূর্ণ ও প্রাণবন্ত রূপ।
এই টেপ টেনিস টুর্নামেন্ট কেবল একটি খেলাধুলার আয়োজন নয়—এটি তরুণদের জন্য এক সম্ভাবনার মঞ্চ। এখানে প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন স্বপ্ন, নতুন লক্ষ্য এবং ইতিবাচক জীবনের দিশা।তাই ক্রীড়াপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন এই বহুল প্রতীক্ষিত আয়োজনের দিকেই নিবদ্ধ।
এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহলসহ সর্বস্তরের মানুষ। তাদের মতে, এই ধরনের আয়োজন যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এলাকাজুড়ে বইছে আনন্দের আবহ, তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এলাকাবাসীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই টুর্নামেন্টের সফলতা কামনা করে আয়োজকদের প্রতি জানিয়েছেন আন্তরিক শুভকামনা।
Leave a Reply