বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অফিসের সাধারণ এক নকল নবিশ পরেশ সমাদ্দার ওরফে ‘পরেশ দাদা’কে ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ।
সাব-রেজিস্ট্রারের গাড়ি চালক ও নকল নবিশ—এই দুই পরিচয়কে পুঁজি করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি ফি-র বাইরে মোটা অংকের টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো কাজ হয় না।
আওয়ামী দোসরের সাথে হাত মিলিয়ে জমি দখল:অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ নম্বর গাঁওলা ইউনিয়নের পলাতক সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিমের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এই পরেশ। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও অসহায় মানুষের প্রায় ১০০০ বিঘা জমি জবরদখল করে নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন তিনি। এমনকি আওয়ামী আমলে যারা রেজাউলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জমি কেড়ে নেওয়ার নেপথ্য কারিগরও ছিলেন এই পরেশ।
সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ভাঙিয়ে অর্থ লোপাট:পরেশ সমাদ্দার বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম রিপনের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত। এই সুযোগে সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ভাঙিয়ে তিনি প্রতিটি দলিলে অবৈধ কমিশন আদায় করেন। সাধারণ মানুষ দলিলের নকল তুলতে গেলে তাকে দিতে হয় অতিরিক্ত অর্থ, অন্যথায় ফাইল আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস। এমনকি ছুটির দিনেও মোটা অংকের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র দিয়ে দলিল সম্পাদন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অঢেল সম্পদের পাহাড়: ‘কৃষক’ পরিচয়ে লুকানোর চেষ্টা:একজন সাধারণ নকল নবিশ হয়েও পরেশ কীভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে সাধারণ ‘কৃষক’ দাবি করে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৪ সদস্যের নকল নবিশ কমিটির প্রভাব খাটিয়ে তিনি ভূমিদস্যু ও জবরদখলকারী চক্রের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।
রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা:এদিকে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
বাগেরহাটের কৃতি সন্তান এবং বর্তমান সরকারের রেল, নৌ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা জানান, এমন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
অবিলম্বে দুদক ও প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে পরেশ সমাদ্দারের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply