খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার বদলে তা ধ্বংসের নেশায় মেতেছেন খাগড়াছড়ির ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের জামতলী বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ির বিতর্কিত স্টেশন কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) মো. তমিজ উদ্দিন। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার আগে অবশিষ্ট সময়কে তিনি পাহাড়ের সম্পদ লুটের ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে নাড়াইছড়ি, বাঘাইহাট ও হাজাছড়ি রেঞ্জের শতবর্ষী প্রাচীন মাতৃবৃক্ষগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে।
প্রভাবের দাপটে ধরাছোঁয়ার বাইরে:অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত প্রভাবশালী ভাই রমিজ উদ্দিনের ছত্রছায়ায় তমিজ উদ্দিন বন বিভাগকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। তৎকালীন বনমন্ত্রীকে ব্যবহার করে রামগড়, পানছড়ি ও ঢাকা হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত লাভজনক পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তার। বর্তমানে অবসরের দোরগোড়ায় এসে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
যেভাবে চলে পাচার সিন্ডিকেট:অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামতলী চেক স্টেশনকে কেন্দ্র করে তমিজ উদ্দিন একটি শক্তিশালী পাচারকারী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তাকে সরাসরি সহায়তা করছেন:
জাহেদ হোসেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা, নাড়াইছড়ি।
মো. আক্তারুজ্জামান, রেঞ্জ কর্মকর্তা, বাঘাইহাট।
রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনের শতবর্ষী বৃক্ষভর্তি ট্রাক পার করে দিতে তমিজ উদ্দিন গাড়ি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। বিনিময়ে পাচারকারীরা নির্বিঘ্নে পাহাড়ের অমূল্য সম্পদ নিয়ে সমতলে চলে যাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর অভিযানে থলের বিড়াল ফাঁস:তমিজ উদ্দিনের এই ‘সেফ প্যাসেজ’ বা লাইন দেওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যায়। গত ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দিঘীনালা জোন একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ কাঠবোঝাই তিনটি বড় ট্রাক জব্দ করে। জানা গেছে, এই তিনটি ট্রাককেও লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে পার করে দেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি করেছিলেন তমিজ। সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপে বন বিভাগের এই সিন্ডিকেটের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।
রাজস্ব ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়:এই অসাধু কর্মকর্তার কারণে একদিকে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। তমিজ উদ্দিনের মতো চিহ্নিত ‘বন খেকো’ কর্মকর্তার অপসারণ এবং তার অবৈধ সম্পদের তদন্তের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে দিঘীনালার সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পাহাড়ের এই প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a Reply