বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দুর্নীতি যেন এক ওপেন সিক্রেট। আর এই দুর্নীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে ১০ম গ্রেডের একজন মোটরযান পরিদর্শক হয়েও অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন ইকবাল আহামদ (গ্রামের বাড়িতে যিনি সোহেল নামে পরিচিত)। সাভার ও বরিশাল হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ গাড়ি রেজিস্ট্রেশন, নিয়োগ বাণিজ্য এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বাসিন্দা ইকবাল আহামদ বিআরটিএ-র সামান্য একজন পরিদর্শক। অথচ তার জীবনযাপন হার মানাবে বড় কোনো শিল্পপতিকেও। সাভার ব্যাংক কলোনি এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদসম এক আলিশান বাড়ি। কথিত আছে, বাড়িটির একেকটি দরজা তৈরিতেই ব্যয় হয়েছে লাখ টাকা। এছাড়া গ্রামের বাড়ি সিঙ্গাইরে মেয়েদের (ইরিনা ও এলিনা) নামে গড়ে তুলেছেন রিসোর্টের আদলে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত খামারবাড়ি ও ডেইরি ফার্ম। ব্যবহার করেন অর্ধকোটি টাকা দামের বিলাসবহুল গাড়ি।
শুধু নিজের নামেই নয়, স্ত্রী আর্জিনা বেগমের নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তার স্ত্রী বর্তমানে সাভার পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইকবালের দুর্নীতির টাকায় তার শ্বশুরবাড়িতেও বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
সাভার বিআরটিএ-তে থাকাকালীন দুর্নীতির দায়ে ৬ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হয়েছিলেন ইকবাল। এরপর বদলি হয়ে বরিশালে গিয়েও থামেনি তার অপকর্ম। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে বরিশাল বিআরটিএ-র সহকারী পরিচালক শাহ আলম ও রেকর্ড কিপার আব্দুর রাজ্জাকের যোগসাজশে তিনি ২৫৫টি গাড়ির অবৈধ রেজিস্ট্রেশন প্রদান করেন। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ছিলেন ইকবাল, যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইকবাল আহামদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যেরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের ছোট ভাই এবং সাইফুল নামের এক পরিচিতসহ অনেককে বিআরটিএ-তে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে হাতিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। সরকারি দপ্তরকে যেন তিনি নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে কর্মরত আছেন এবং সেখানেও নতুন করে দুর্নীতির জাল বিস্তার করছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন। ১০ম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে তার এই বিত্তবৈভবের বিশাল অসংগতি অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিবিড় তদন্তের দাবি রাখে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন— একজন পরিদর্শক হয়ে কীভাবে শতকোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব? পর্দার আড়ালে থাকা এই ‘মাস্টারমাইন্ডের’ খুঁটির জোর কোথায়?
#BRTA #Corruption #AntiCorruption #Bangladesh #Investigation #Duda
Leave a Reply