জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যার দায়িত্ব রাষ্ট্রের কর আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু কর আদায়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।
যিনি রাষ্ট্রের কর আদায় নিশ্চিত করবেন, সেই কর কর্মকর্তাই ডুবলেন দুর্নীতির মহাসাগরে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা সাদা করতে নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকেও ব্যবহার করেছেন ঢাল হিসেবে। বলছি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথীর কথা। শেষ রক্ষা হয়নি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে সপরিবারে আটকা পড়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তানজিনা সাথী ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
অনুসন্ধান বলছে, তানজিনা সাথী তার বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা রাণী বিলকিসের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছিলেন। এই বৃদ্ধ দম্পতির নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তাদের আয়কর নথিতে কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়। মূলত মেয়ের ঘুষ ও দুর্নীতির টাকা বৈধ করতেই তাদের নামে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আয়কর নথি প্রস্তুত করা হয়েছিল।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদের দায়ের করা তিন মামলার এজাহার অনুযায়ী সম্পদের বিবরণ তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-৭ এবং কর অঞ্চল-৯ এর বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত থাকাকালীন বিপুল পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তার অর্জিত সম্পদের বিপরীতে দালিলিক প্রমাণ মিলেছে খুবই সামান্য। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক আসামিদের ধরতে এবং দুর্নীতির শেকড় আরও গভীরে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply