রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাধারণ পথচারী ও রিকশা আরোহীদের জন্য নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ধাক্কা পার্টি’। অভিনব কায়দায় পথরোধ করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া এই চক্রের কবলে পড়ে প্রতিদিন কেউ না কেউ নিঃস্ব হচ্ছেন। গত কয়েকদিনে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে। এদের কাজের ধরন অত্যন্ত চতুর। চক্রের একজন সদস্য হঠাৎ করেই কোনো পথচারী বা চলন্ত অটোরিকশার সঙ্গে গায়ে পড়ে ধাক্কা খায়। এরপর শুরু হয় পরিকল্পিত বাকবিতণ্ডা। ‘কেন ধাক্কা দিলেন’ বা ‘আহত হয়েছেন’—এমন নাটক সাজিয়ে পথচারীকে ব্যতিব্যস্ত রাখা হয়।
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চক্রের অন্য সদস্যরা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় লক্ষ্যবস্তুকে। এরপর পকেটে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ এবং সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে তারা। পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত সম্পন্ন হয় যে, ভুক্তভোগী চিৎকার করার সুযোগ পর্যন্ত পান না।
মোহাম্মদপুরের বসিলা, জেনেভা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা, বেড়িবাঁধ এবং নূরজাহান রোডের নির্জন স্থানগুলোতে এই ‘ধাক্কা পার্টি’র আনাগোনা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এদের উৎপাত চরমে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারীদের এই নতুন কৌশল সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দ্রুতই এই চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
রাস্তায় হাঁটাচলার সময় কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাইলে বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত জনসমাগমস্থলে আশ্রয় নিতে এবং নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
মোহাম্মদপুরসহ সারাদেশের অপরাধ ও অনুসন্ধানী খবরের জন্য চোখ রাখুন ‘দৈনিক ভোরের হাওয়া’র পাতায়।
Leave a Reply