নোটিশ :
সারা দেশে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে "দৈনিক ভোরের হাওয়া" দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম Daily Bhorer Haoa সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস পর্যায়ে প্রতিনিধি (সাংবাদিক) নিয়োগ দিচ্ছে। যারা সাংবাদিকতায় আগ্রহী, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখিতে দক্ষ এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চান—তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।
সংবাদ শিরোনাম:
চামড়া খাতের বিপর্যয় ও উত্তরণের পথ কোরবানির ঈদের অনবদ্য কারিগর: এক দিনের কসাইদের আকাশছোঁয়া কদর কুরবানীর অর্থনীতিতে চাঙ্গা গ্রামবাংলা এক লাখ কোটি টাকার প্রবাহে নতুন গতি পেল দেশের স্থানীয় বাজার ​ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদুল আজহা ​— আরবের ঐতিহ্য, পাশ্চাত্য বাস্তবতা ও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট ​ঈদ-উল-আযহার আলোয় মোহাম্মদপুর-আদাবরে অনাগত দিনের নতুন প্রতিশ্রুতি: শারিয়া মোস্তাফিজ সিমির ঈদ বার্তা! ডিএনসিসির পশুর হাটের ইজারা: নিয়ন্ত্রণে বিএনপি নেতাদের একচেটিয়া আধিপত্য ​ত্যাগের মহিমায় দেশবাসীর পাশে: ইশতিয়াক আহমেদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ​ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মনোয়ার হাসান জীবন ভালুকাবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালো মোহাম্মদপুর প্রেসক্লাব
ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নাকি রহস্যের আড়ালে অন্য কোনো সত্য?

ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নাকি রহস্যের আড়ালে অন্য কোনো সত্য?

এমডি রবিউল ইসলাম, ক্রাইম রিপোর্টার

ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও থানাধীন পশ্চিম নন্দীপাড়া, সিটি কর্পোরেশন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সজীব (আনুমানিক ১৬/১৭) নামের এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য, নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।কিশোর সজীবের মৃত্যু ঘিরে তুমুল আলোচনা, কিশোর-কিশোরীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 গত ২৭/০৩/২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এখনো রহস্য কাটেনি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সজীব মাদক সেবন করতো এবং ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার পর ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ বিষয়ে বক্তব্য দেন সজীবের ফুফু জেসমিন আক্তার, স্বামী মোঃ আলমাস।

তিনি দাবি করেন, “সজীব দরজা আটকে রেখেছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা জানালার গ্লাস  ভেঙে দেখতে পান সজীবের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করা হয়। তখনও আমাদের মনে হয়েছিল তার নিশ্বাস রয়েছে। দ্রুত মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

এদিকে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট সজীবের মা দাবি করেন, হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হলেও সেটি হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “তখন আমরা শোকাহত অবস্থায় ছিলাম। ব্রেইন ঠিকমতো কাজ করছিল না, তাই কাগজপত্র হারিয়ে গেছে।”

অপরদিকে সজীবের ফুফু জেসমিন আক্তার দাবি করেন, ডেথ সার্টিফিকেট, পুলিশের তদন্ত রিপোর্টসহ সকল আনুষঙ্গিক কাগজপত্র তার মেয়ের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং কয়েকদিন সময় নিয়ে সকল কাগজপত্র দেখাবেন।

তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মাঝে তৈরি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন ও মতভেদ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী ও সজীবের বন্ধু-বান্ধব জানান, ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা নানা আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছেন।

একজন ব্যক্তি বলেন, “মৃত্যুর পর সজীবের শরীরে গলার  এক পাশে দাগ দেখা গেছে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, “ময়নাতদন্ত করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারতো। কেন ময়নাতদন্ত করা হয়নি, সেটি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।”

প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা বলেন, “বিভিন্ন মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, তবে সত্যটা তদন্তেই বের হওয়া উচিত।”

এদিকে সজীবের বন্ধুবান্ধবদের কেউ কেউ জানান, “আমরা ভুল করতেই পারি, ছোট বয়সে অনেক ভুল হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে যদি আরও নজরদারি  ও সহানুভূতি থাকতো, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো।”

তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কিশোর-কিশোরীদের আচরণ ও জীবনধারার প্রতি পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি। বিশেষ করে মাদক বা ঘুমের ট্যাবলেট সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় গুরুত্ব সহকারে নজরদারি করা উচিত বলে তারা মত দেন।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেছেন স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি। তিনি বলেন,“সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা বাবা-মায়ের কোল। তাই কিশোর কিশোরীদের  প্রতি নজরদারি ও মানসিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।”

এছাড়াও এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, কিশোর সজীব ক্ষোভের বসবর্তী হয়ে বা রাগের বশে মানসিক কষ্ট পেয়ে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। পরিবারের কারো প্রতি ক্ষোভ, অথবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে মনোমালিন্য থেকেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মর্মান্তিক আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ কী ছিল—তা জানা অত্যন্ত জরুরি, যা এখনো অস্পষ্ট।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সামনেই সজীবের মা ও দাদি অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের অনেকের মতে, তারা কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন। তবে কেন অধিকাংশ বক্তব্য সজীবের ফুফুর পক্ষ থেকে আসছিল, সেটিও এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এছাড়াও সজীবের ফুফু দাবি করেন, সজীবের পিতা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং মা ও দাদি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তারা কথা বলার অবস্থায় নেই। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সজীবের পিতা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সজীবের লাশ দাফন করা হয়েছে নন্দীপাড়া ক্যাম্প কবরস্থানে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি মনে করছেন, প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি নিয়ে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন সম্ভব হতে পারে।

স্থানীয়দের অনেকেই জোর দাবি জানিয়েছেন, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও পি বি আই-এর স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।

জানা গেছে, সজীবের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর আড়াইহাজারে। বর্তমানে তারা ঢাকা খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বা মেডিকেল ডকুমেন্টস গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছেনি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে রহস্য ও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ময়নাতদন্ত কেন করা হয়নি—এ নিয়েও এলাকাবাসীর মাঝে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হলে প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারতো।

এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের আগে তদন্ত কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সত্য তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।ঘটনার আড়ালে অন্য কোনো সত্য লুকিয়ে আছে কিনা, নাকি এটি শুধুই আত্মহত্যার ঘটনা— সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষায় এলাকাবাসী।

চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক ভোরের হাওয়া © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com