গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কাগজে-কলমে শিল্প হলেও পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন এ খাতে কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা।
সাম্প্রতিক এক আলোচনায় উঠে এসেছে যে, যথাযথ শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাংবাদিকদের জীবনযাত্রায়। দেশের অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানেই এখন নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়া একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সরকার ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। একটি খাত যখন ‘শিল্প’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তখন সেটি ব্যাংক ঋণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সুবিধা এবং সরকারি নানা প্রণোদনার দাবিদার হয়। তবে গণমাধ্যম মালিকদের দাবি, এই গেজেট হওয়ার পর থেকে তারা শিল্প খাতের জন্য বরাদ্দকৃত সুযোগ-সুবিধাগুলো সেভাবে পাচ্ছেন না। ফলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যয় বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে কর্মীদের বেতন-ভাতার ওপর।
শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ায় এবং বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হওয়ায় অনেক নামী-দামি সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল সময়মতো বেতন দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস বকেয়া থাকছে বেতন ও ঈদ বোনাস। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, “একজন সাংবাদিক যদি নিজের পরিবার ও সন্তানদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে না পারেন, তবে তার পক্ষে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
সংবাদকর্মীরা অবিলম্বে এই খাতের সংকট নিরসনে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমকে যদি প্রকৃত শিল্পের মর্যাদা দিয়ে শক্তিশালী করা না হয়, তবে এই পেশার প্রতি মেধাবীদের অনাগ্রহ বাড়বে এবং দেশের সাংবাদিকতা এক গভীর সংকটে পতিত হবে।
Leave a Reply