ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
মানবাধিকার সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ের দাপট শেষ পর্যন্ত ধুলোয় মিশল জনতার হাতে। নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কর্ণধার পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারকারী কাজী মাহমুদুল হাসানকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে ঝিনাইদহ সদর এলাকাবাসী।
কী ছিল তার অপরাধের ডায়েরিতে?
মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদর এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম চালানোর সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন মাহমুদুল হাসান। তল্লাশির সময় তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি ও একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, প্রতারক মাহমুদুল হাসান নিজেকে ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা’ ও ‘Centre For Enforcement of Human Rights and Legal Aid (CEHRLA)’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। শুধু তাই নয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’-সহ বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন প্রতারণার এক বিশাল নেটওয়ার্ক। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সদস্য কার্ড বিক্রি, কমিটি গঠনের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতারণার জাল বিস্তার:
ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ তালিকা থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের অমিত তালুকদার ও মাহমুদুল হাসান, ঝিনাইদহের মো. জুয়েল এবং কয়রাবাদের মাহবুবুল আলম সজলসহ অনেকেই তার প্রতারণার শিকার। তাদের অভিযোগ, এই চক্রটি সরকারি নিবন্ধন নম্বর, লোগো এবং ব্যানার জাল করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হতো তাদের।
কী বলছে পুলিশ?
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, “আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত আলামত ও অভিযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে।”
ঝিনাইদহবাসীর মতে, মানবাধিকারের নাম ভাঙিয়ে যারা অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়েছিল, তাদের এই আটকের মাধ্যমে অনেক ভুক্তভোগীই ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, আইনের কঠোরতায় এই প্রতারক চক্রের মূল হোতারা কতটা পর্যুদস্ত হয়।
Leave a Reply