সাভারে একটি জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে কাজ করার পর চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য ‘সম্মানী’ চাওয়ায় এক ব্যক্তিকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো ও মানহানি করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাভারের সার্কেল এসপি এবং আশুলিয়া মডেল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এস. এম. শিপন আহমেদ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী মো. সানাউল্লাহ ইসলামের একটি ক্রয়কৃত জমি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের দখলে ছিল। ওই জমি উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য শিপন আহমেদের সাথে সানাউল্লাহ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে আবদ্ধ হন। সাক্ষী ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে হওয়া ওই চুক্তিতে কাজের সম্মানী বাবদ ৫ লক্ষ টাকা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে মামলার প্রাথমিক খরচ ও সম্মানী বাবদ ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রদানের কথা থাকলেও বিবাদী এখন পর্যন্ত কিস্তিতে মাত্র ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। অবশিষ্ট ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্মানী চলতি মাসে দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন সানাউল্লাহ।
ভুক্তভোগী শিপন আহমেদ জানান, সানাউল্লাহর একটি মামলার (নং ৮৮৮/২৩) প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়। আদালত আগামী ১১-০৫-২০২৬ তারিখে মূল দলিল ও ভায়া দলিলসহ সংশ্লিষ্টদের সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। পেশাগত কারণে শিপন আহমেদ যখন প্রয়োজনীয় ওই দলিলগুলো বিবাদীর কাছে চান এবং বকেয়া ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্মানী দাবি করেন, তখনই বিবাদী সানাউল্লাহ ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
শিপন আহমেদের দাবি, পাওনা সম্মানী যেন দিতে না হয় এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে সানাউল্লাহ তার দুই বোন জামাইকে (যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে) সাথে নিয়ে মাতাল অবস্থায় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, শিপন আহমেদ ব্ল্যাকমেইল করে টাকা নিয়েছেন—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ভুক্তভোগী এস. এম. শিপন আহমেদ আরো বলেন,”আমি আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। স্ট্যাম্প ও সাক্ষীর উপস্থিতিতে বৈধভাবে কাজের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু আমার পাওনা সম্মানী না দেওয়ার জন্য এবং আদালতের নির্দেশ থেকে বাঁচতে তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে। আমি ইতিমধ্যে সার্কেল এসপি মহোদয় ও আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আগামী ১১ মে তারিখের মধ্যে বিবাদী আদালতে উপস্থিত না হলে এবং আমার পাওনা পরিশোধ না করলে আমি তাদের বিরুদ্ধে মানহানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করব।”
সাভার ও আশুলিয়া এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে এই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিপন আহমেদ এই ষড়যন্ত্রমূলক হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply