নতুন দুটি ইউনিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অভিযোগ উঠেছে, তার নির্বাচনী এলাকায় গঠিত দুটি নতুন ইউনিয়নের নাম তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত চলছে ব্যাপক বিতর্ক।
সম্প্রতি বগুড়া জেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় ‘দিগন্ত’ ও ‘সীমান্ত’ নামে। সমালোচকদের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামও দিগন্ত ও সীমান্ত হওয়ায় নামকরণের পেছনে ব্যক্তিগত প্রভাবের প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি সংসদে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, ইউনিয়নের নামকরণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে এবং তার ছেলেদের নামের সঙ্গে মিল থাকা কেবলই ‘কাকতালীয় ঘটনা’।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান বলেন, “এখানে আইনের লঙ্ঘন যদি নাও হয়, তবু এটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে, কারণ তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল আছে। এতে তার ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে আজ অথবা কাল।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি স্থাপনা, ইউনিয়ন বা জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে স্বচ্ছতা ও জনআস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বৈধ হলেও তা যদি স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ধারণা তৈরি করে, তাহলে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। বিরোধী মতের নেতারা নামকরণের প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পটভূমি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর সমর্থকরা বলছেন, শুধুমাত্র নামের মিল থাকলেই সেটিকে অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এ ঘটনার পর সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণে নীতিমালা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Leave a Reply