মো:আরমান হেসেন রাজীব,ঢাকা:
বাংলাদেশ বিমানের যানবাহন উপ-বিভাগে কর্মরত মো: মাসুমের বিরুদ্ধে এসএসসি ও সমমানের সনদ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বিমান কর্তৃপক্ষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করলেও, অভিযুক্ত মাসুম বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে উল্টো কারিগরি ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলার হুমকি দিয়েছেন।
গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ বিমান কর্তৃপক্ষ মো. মাসুমকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠায়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মাসুমের ব্যক্তিগত নথিপত্র, অনলাইন তথ্যভান্ডার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্যে তার এসএসসি ও সমমানের সনদটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিমানের নিরাপত্তা বিভাগের প্রাথমিক তদন্তেও এই জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯-এর ৫৫ ধারা অনুযায়ী, নিয়োগের সময় জাল সনদ দাখিল করা গুরুতর অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তাকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত ৯৬ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত মাসুম কর্তৃপক্ষকে কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি।
এ বিষয়ে ‘দৈনিক ভোরের হাওয়া’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে বরং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। মাসুম দাবি করেন যে, তিনি নিয়ম মেনেই সনদ দাখিল করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি নিয়েছেন।
তবে কর্তৃপক্ষ কেন তাকে শোকজ করল এবং জবাব প্রদানে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। মাসুম বলেন, “আমি আমার প্রয়োজনে পরে আপনাকে ডাকব। কর্তৃপক্ষের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে নেব।” এ সময় তিনি উল্টো কারিগরি ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার হুমকি দেন।
সনদ জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মীর এমন আচরণ এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগের হুমকি নিয়ে বিমানের অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিষয়টি আইন ও প্রশাসনের আওতায় কোন দিকে মোড় নেয় এবং কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা নিয়ে সরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
পরবর্তী পর্বের আসছে আরো চঞ্চলকর তথ্য নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন
Leave a Reply