কথায় আছে, ‘চুরি না শিখলে বিদ্যা বৃথা’—তবে মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম যেন সেই প্রবাদকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সরকারি অফিসের সামান্য এক পিয়ন পদে চাকরি করেও তিনি এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার এই অবিশ্বাস্য উত্থানকে স্থানীয়রা ‘আলাদিনের চেরাগ’ বা ‘কোটি টাকার কুমির’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে পিয়ন পদে কর্মরত থাকাকালীন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন জাহাঙ্গীর। দলিল লেখক থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচায় আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কমিশন বা ঘুষের টাকায় তিনি এখন ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন। রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে তার একাধিক ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমির সন্ধান পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের একাধিক ব্যক্তি জানান, জাহাঙ্গীরের ক্ষমতার দাপটে অনেক সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও তটস্থ থাকেন। কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে দলিলপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার আয়ের মূল উৎস। কেবল মোহাম্মদপুরেই নয়, তার নিজ এলাকায়ও তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
সূত্র বলছে, জাহাঙ্গীরের দখলে থাকা সম্পদের মধ্যে রয়েছে:
একজন সাধারণ পিয়ন কীভাবে শতকোটি টাকার মালিক হতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন দুর্নীতি চললেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যথাযথ তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
বর্তমানে এই ‘কোটি টাকার কুমির’ জাহাঙ্গীর আলমের দুর্নীতির খবর চাউর হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক।
Leave a Reply