চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সুবর্ণা নামের এক টিকটকার নারীর মরদেহ দাফন করাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর বাধা ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সুবর্ণার মৃত্যুর পর তার মরদেহ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করতে নিয়ে গেলে এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হয়ে দাফন কার্যে বাধা প্রদান করে।
গ্রামবাসীর দাবি, সুবর্ণা জীবদ্দশায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “অশ্লীল ও উশৃঙ্খল” ভিডিও তৈরি করতেন, যা তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে আঘাত হেনেছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর ভাষ্য, “এই কবরস্থানে আমাদের বাবা-মা ও পূর্বপুরুষেরা শান্তিতে শায়িত আছেন। সুবর্ণার মতো একজন বিতর্কিত চরিত্রের মানুষকে আমরা তাদের পাশে স্থান দিতে পারি না।” স্থানীয়দের এমন অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিড়ম্বনায় পড়েন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অধিকাংশ সচেতন নাগরিকের মতে, একজন মানুষ জীবদ্দশায় যেমনই হোক না কেন, মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া অমানবিক।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ীও মৃতদেহের দ্রুত সৎকার ও সম্মান প্রদর্শন কাম্য। কোনো মানুষের পাপ-পুণ্যের বিচার করার দায়িত্ব মানুষের নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার। লাশের সাথে এমন আচরণ সামাজিক অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply