রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রুপটির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শাহিন এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি বিশেষ টিম মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারকৃত শাহিনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ, একই পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
পূর্বের অপরাধের রেকর্ড ও নৃশংসতা:
’পাটালি গ্রুপ’-এর অপরাধের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার এবং বোটঘাট এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
পরিবারের ওপর হামলা (মে ২০২৫): গত বছরের ১৫ মে গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের ইত্যাদি মোড় এলাকায় এই গ্রুপের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বির পরিবারের ৬-৭ জন সদস্যকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
পূর্বের গ্রেপ্তার ও জামিন: ২০২৫ সালের ১৯ মে পুলিশ শাহিনসহ ৪৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে জামিনে বেরিয়ে এসে সে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং গ্রুপের নেতৃত্ব দিতে শুরু করে।
চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার: মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ ও বোটঘাট এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং ফুটপাত দখল করে চাঁদাবাজি করা ছিল এই গ্রুপের প্রধান কাজ। ‘Alex Group’ এবং ‘Patali Group’-এর মধ্যে প্রায়ই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছিল।
সম্প্রতি মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ডিবি পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ধারণকৃত একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অপরাধীরা এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। ওই ফুটেজটি শাহিন ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান:
“শাহিন জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও গ্রুপ গোছানোর চেষ্টা করছিল। আজ তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মোহাম্মদপুরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরবে বলে আমরা আশা করছি। এই গ্রুপের বাকি সদস্যদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকার বাসিন্দারা এই গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে রাতে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা শাহিনসহ এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় স্থায়ী পুলিশি টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply