বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা পেশাদার সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত। যারা নীতি-নৈতিকতা ও পেশাগত মান-মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে তারাই প্রকৃত সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি পান।
চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ কনফারেন্স রুমে জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অপসাংবাদিকতা রোধে কঠোর বার্তা:বিচারপতি আব্দুল হাকিম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা রোধে প্রতিটি সাংবাদিককে প্রেস কাউন্সিলের নির্ধারিত আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পেশাদারিত্বের মান বাড়াতে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসনের আহ্বান
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর প্রশংসা করার পাশাপাশি ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান সাংবাদিকদের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ:সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর। তিনি সংবাদ লিখন পদ্ধতি, আইনি জটিলতা নিরসন এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও সুরক্ষায় প্রেস কাউন্সিলের আইনি ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রেস কাউন্সিলের সুপারিনটেনডেন্ট সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, স্থানীয় পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের হাতে আনুষ্ঠানিক সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
Leave a Reply