গণমাধ্যম ও রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই জেন্ডার সংবেদনশীলতা বজায় রাখা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা ও নৈতিকতা:মন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সংবাদ পরিবেশন বা টকশোতে নারীদের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সংবাদের ভাষায় বা উপস্থাপনায় জেন্ডার বৈষম্য ফুটে ওঠে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে জেন্ডার ইস্যুটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি আরও জানান যে, পিআইবি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে জেন্ডার সমতা:রাজনীতির ময়দানে নারীদের অংশগ্রহণ ও তাদের মর্যাদা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “রাজনীতিতে নারীদের কেবল কোটা পূরণ হিসেবে দেখলে চলবে না। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও জেন্ডার সংবেদনশীল চর্চা এবং জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন।”
জবাবদিহিতার আবশ্যকতা:সেমিনারে বিশেষ অতিথিরা উল্লেখ করেন যে, গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে নারীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য বা আচরণের ক্ষেত্রে যদি যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হয়, তবে জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ গঠন করা কঠিন হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের সাইবার বুলিং রুখতে কঠোর আইন ও সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সেমিনারে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ এবং জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা একমত পোষণ করেন যে, কেবল আইন দিয়ে নয়, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমেই গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে প্রকৃত জেন্ডার সমতা আনা সম্ভব।
Leave a Reply