নোটিশ :
সারা দেশে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে "দৈনিক ভোরের হাওয়া" দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম Daily Bhorer Haoa সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস পর্যায়ে প্রতিনিধি (সাংবাদিক) নিয়োগ দিচ্ছে। যারা সাংবাদিকতায় আগ্রহী, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখিতে দক্ষ এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চান—তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।
সংবাদ শিরোনাম:
নরকখ্যাত মোহাম্মদপুরের মুক্তি কি আসন্ন? প্রশাসনের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই একমাত্র পথ প্রি-শিপমেন্ট ঋণ চালু: রপ্তানি বাণিজ্যে বাড়বে গতি সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল সংক্রান্ত আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ​সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখাই সাংবাদিকতার প্রধান শর্ত: বিচারপতি আব্দুল হাকিম অপারেশনাল উৎকর্ষতা ও উড্ডয়ন নিরাপত্তায় আপসহীন বিমান বাহিনী: কমান্ড সেফটি সেমিনার-২০২৬ অনুষ্ঠিত জেন্ডার সংবেদনশীলতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না মোহাম্মদপুরকে: র‍্যাব-২ অধিনায়কের কঠোর হুঁশিয়ারি আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ১ মে থেকে : জ্বালানি মন্ত্রী কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু হবে ১ হাজার মাদ্রাসায় : শিক্ষামন্ত্রী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের পদক্ষেপ

ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের পদক্ষেপ

দেশের বিচারব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ দুই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘুষ গ্রহণ ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলো আইন-আদালত অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
​অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কঠোর ব্যবস্থা
​রাষ্ট্রের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।
​সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে জনৈক বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের একটি লিখিত অভিযোগ আসে। মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দেওয়ার প্রলোভনে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই তিনি অভিযোগটি পান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলশ্রুতিতে, গত ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আবুল হাসানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
​এছাড়া, জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রিট মামলার ফাইল উদ্দেশ্যমূলকভাবে হাইকোর্টে উপস্থাপন না করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে গত ১৬ এপ্রিল মো. ইমরান হোসেন নামে এক অফিস সহায়ককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন:
​”আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে কর্মরতদের নীতি-নৈতিকতা হতে হবে উন্নত মানের। কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রশ্রয় এখানে দেওয়া হবে না।”
​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কমিটি
​অন্যদিকে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সফলতা দেখাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ পর্যন্ত চারটি রায়ে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ প্রসিকিউশন টিমের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
​অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গ্রেফতার হওয়া এক সাবেক সংসদ সদস্যকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক প্রসিকিউটর কোটি টাকা দাবি করেছেন, যার একটি ফোনালাপ সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। এছাড়া অন্য এক প্রসিকিউটরের কক্ষে আসামির স্ত্রীর রহস্যজনক ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
​এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১০ মার্চ একটি ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন:
​”আমরা দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ট্রাইব্যুনালের কোনো প্রসিকিউটর বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ যদি দুর্নীতির চিন্তা করেন, তবে সেটি তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে।”
​ইতিবাচক প্রভাব
​আইনজীবীরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের এই দুই কার্যালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো বিচারপ্রার্থীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক ভোরের হাওয়া © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com