ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক পুলিশ কনস্টেবলের পৈতৃক বাড়িতে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হওয়া এই হামলায় নারী ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় ভুক্তভোগীর নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় কৃষকদল নেতা নুর ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভেকু (এক্সকাভেটর) নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতবাড়ির একাংশ এবং জমিতে থাকা দুটি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। হামলাকারীদের ইটের আঘাতে এবং ধারালো অস্ত্রের কোপে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত নুর ইসলাম ও ভুক্তভোগী পুলিশ কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম সম্পর্কে আত্মীয়। প্রায় ৫৪ শতাংশ পৈতৃক জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। জমিটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে গাজীপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন,
“একজন পুলিশ সদস্য হয়েও আমি ও আমার পরিবার নিজ বাড়িতে নিরাপদ নই। হামলার সময় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে যে ধরনের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা আশা করেছিলাম, তা পাইনি।”
ঘটনার বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভাঙচুরের ঘটনাটি সত্য। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে নতুন করে কোনো হুমকির অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply