ঢাকা সরকারি চাকরিতে জেঁকে বসা দুর্নীতি নির্মূলে এবং অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের ধরতে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, এনবিআর এবং বিদ্যুৎ বিভাগের মতো সেবাখাতগুলো এখন দুদকের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।
একই সাথে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফেরাতে সকল সরকারি কর্মচারীকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিশেষ নজরে ভূমি ও আবাসন খাত ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জালিয়াতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য মেলায় এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও অন্যান্য সংস্থায় যারা অবৈধভাবে প্লট বা ভবন অনুমোদনের সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
এনবিআর ও বিআরটিএ-তে চিরুনি তল্লাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত অনেকের বিরুদ্ধেই অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কর অঞ্চল-১৪-এর একজন কর্মচারীর নামে কয়েক কোটি টাকার জমির হদিস পাওয়ার পর এই তৎপরতা আরও জোরালো করা হয়েছে। বর্তমানে এনবিআর-এর অন্তত ১৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গভীর তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বিআরটিএ-তে দালাল চক্রের সাথে আঁতাতকারী কর্মকর্তাদের আমলনামাও তলব করেছে কমিশন।
বিদ্যুৎ খাতের ১০ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির (BPDB) সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও অঢেল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ১০ জন পৃথক অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিশাল অঙ্কের অর্থ তছরুপ করে তারা এই সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সম্পদের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযানের অংশ হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সকল সরকারি কর্মচারীকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের অর্জিত সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দুদক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রকৃত তথ্য বের করতে এনবিআর ও ব্যাংকগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এই অভিযানে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব কাজ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
Leave a Reply